আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা (আবনা): ইসলামের মৌলিক আহ্বান হচ্ছে একত্ববাদের আহ্বান। এক আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, হযরত মুহাম্মাদ (সা.) আল্লাহর রাসুল-এই পবিত্র বাণীর মধ্যেই তাওহিদী আহ্বানের সঙ্গে ইসলামি ঐক্যের আহ্বান বিদ্যমান।
আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেন, ‘তোমরা সবাই আল্লাহর রশি (কুরআন) আঁকড়ে ধরো এবং বিচ্ছিন্ন হয়ো না’ (সুরা আলে ইমরান : ১০৩)। এ আয়াতে ঐক্যের প্রতি বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে বিভেদ সৃষ্টি করা থেকে নিষেধ করা হয়েছে।
বর্তমানে মানুষ ঐক্য, সহমর্মিতা ও মানবিকতার বদলে নানা অনৈক্য, অপরাজনীতিচর্চায় লিপ্ত। মানুষের হিংস্রতা ও সহিংসতা দিন দিন মাত্রা ছাড়িয়ে যাচ্ছে।
অকারণে একজন আরেকজনের জীবন-জীবিকা, সম্পদ ও ইজ্জত, সম্মানহানি করছে। যার কোনোটাই ইসলাম সমর্থন করে না। মানুষ হিসেবে মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের কাজ।
ঐক্য, সম্প্রীতি ও মানবপ্রেমের পথ মসৃণ করার কথা ইসলাম বারবার বলে। স্থিতিশীল পরিবেশ, পরামর্শ করে কাজ সম্পন্ন ও সামাজিক সমঝোতার মনোভাব ইসলামের শিক্ষা।
ইসলাম মুসলমানদের ঐক্যের ওপর সবসময় জোর তাগিদ দিয়েছে। কথায় আছে ‘একতাই বল’। বিচ্ছিন্ন থাকা বিপজ্জনক। পরিবারের সদস্যদের একতা পরিবারকে সুসংহত করে।
সমাজের লোকদের একতা সমাজকে সুন্দর ও অপরাধমুক্ত করে। কর্মীদের একতা নেতাকে শক্তিশালী করে। দেশের জনগণের একতা দেশের কল্যাণ নিশ্চিত করে।
ইসলামে ঐক্যের গুরুত্ব অপরিসীম। সংঘবদ্ধভাবে জীবন পরিচালনা করা ইসলামের নির্দেশনা। এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর তোমরা সকলে মিলে আল্লাহর রশিকে দৃঢ়ভাবে ধারণ করো এবং বিচ্ছিন্ন হয়ো না।
আর তোমাদের প্রতি সে নেয়ামতের কথা স্মরণ করো, যখন তোমরা পরস্পর শত্রু ছিলে (ইসলাম গ্রহণের পূর্বে যেমন আউস ও খাযরাজ গোত্রদ্বয়ের মাঝে দীর্ঘকাল যুদ্ধ-বিগ্রহ চলছিল)। অতঃপর আল্লাহ তোমাদের অন্তরে ভালোবাসা সৃষ্টি করে দিয়েছেন।
ফলে তোমরা আল্লাহর মেহেরবানিতে পরস্পর ভাই ভাই হয়ে গেছো। আর তোমরা জাহান্নামের গর্তের কাছে ছিলে, (অর্থাৎ কাফের হওয়ার দরুন জাহান্নামের এত নিকটবর্তী ছিলে যে, জাহান্নামে যাওয়ার জন্য কেবল মৃত্যুরই বিলম্ব ছিল)।
অতঃপর আল্লাহ তোমাদেরকে তা থেকে রক্ষা করেছেন। অর্থাৎ ইসলাম গ্রহণের সৌভাগ্য দান করেছেন। এভাবে আল্লাহ স্বীয় নিদর্শনগুলো বর্ণনা করেন, যাতে তোমরা সঠিক পথে থাকো’ (সুরা আলে ইমরান : ১০৩; তাফসিরে বায়ানুল কুরআন)।
এ আয়াতে মুসলমানদের ঐক্যবদ্ধ থাকাকে আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ঐক্যের গুরুত্ব সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা আরও বলেছেন, ‘তোমরা সেসব লোকদের মতো হয়ো না যাদের কাছে স্পষ্ট ও প্রকাশ্য নিদর্শন আসার পরও বিভিন্ন দল-উপদলে বিভক্ত হয়ে পড়েছে এবং নানা ধরনের মতানৈক্য সৃষ্টি করেছে।
তাদের জন্য রয়েছে কঠোর শাস্তি’ (সুরা আলে ইমরান : ১০৫)। পবিত্র কুরআনের সুরা সাফে উল্লেখ আছে, ‘যারা আল্লাহর রাস্তায় সিসাঢালা প্রাচীরের ন্যায় ঐক্যবদ্ধ ও দৃঢ়তার সঙ্গে যুদ্ধ করে আল্লাহ তাদেরকে ভালোবাসেন’ (সুরা সাফ : ৪)।
আল্লাহ আরও বলেন, ‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, সালাত কায়েম করো এবং কখনো মুশরিকদের দলভুক্ত হয়ো না, যারা তাদের দ্বীনকে টুকরো করে দিয়েছে এবং নিজেরা নানা দলে বিভক্ত হয়েছে, এদের প্রত্যেকটি দলই নিজেদের যা আছে তা নিয়েই মত্ত।’ (সুরা তাওবা : ৩১-৩২)
ইসলাম ঐক্য ও আনুগত্যকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে বিধায় মুসলমানদের সামাজিক ছোট ছোট ঝটিকা সফরেও একজনকে আমির বানিয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকতে ও আনুগত্য করতে নির্দেশ দিয়েছে।
বিভিন্ন যুগের জয়-পরাজয়ের ইতিহাসেও দেখা যায়, মুসলমানরা যখনই ঐক্যবদ্ধ থেকে আল্লাহর আনুগত্য করেছে তখনই সফলতা তাদের পদচুম্বন করেছে। মুসলিম কমিউনিটির শান্তি ও নিরাপত্তা সুসংহত হয়েছে।
তাদের একতা পৃথিবীর অন্যতম প্রভাবক শক্তি হিসেবে দাঁড়িয়েছে। শুধু মুসলিমদের নিরাপত্তা নয়, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে গোটা পৃথিবীতে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার জন্য মুসলমানদের ঐক্য নিয়ামক ভূমিকায় থাকবে।
অতএব, আজও মুসলিম বিশ্বের একতা এবং তাদের ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্ত পৃথিবীর নির্যাতিত-নিপীড়িত মুসলিম মানবতার ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারে।
Your Comment